আমাদের গল্প
বেশিরভাগ অভিভাবকের মতো আমরাও শুরু করেছিলাম যা সুপারিশ পেতাম তাই কিনে: পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম, দোকানি যা ধরিয়ে দিত, অন্য বাচ্চাদের কাছে যা আছে। সময়ের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করলাম, একই খেলনা যেটা এক শিশু হাতছাড়া করতে চায় না, আরেকজন সেটা ছুঁয়েও দেখে না। তখন বুঝতে শুরু করি, একটি খেলনার মূল্য তার দাম বা প্যাকেজিংয়ে নয়। আসল কথা হলো সেটি নির্দিষ্ট একটি শিশুর বয়স, স্বভাব ও আগ্রহের সঙ্গে কতটা মানায়।
এই উপলব্ধির পর আরও জানার আগ্রহ তৈরি হয়। আমরা জানতে শুরু করি খেলনা কীভাবে তৈরি হয়, কী দিয়ে তৈরি হয়, আর কোন জিনিসটা ঠিক করে দেয় একটা খেলনা এক বছরের খেলা টিকবে কি না। বিভিন্ন ধরনের খেলা, প্রতিটি কী গড়ে তোলে, আর অভিভাবকরা ব্যবহারের পর কী বলেন, সব দেখেছি।
তবে আমাদের শেখা শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বছরের পর বছর আমরা নিজেরাই নানা রকম খেলনা কিনে ঘরে ব্যবহার করেছি। একই খেলনাকে ভিন্ন বয়সে, ভিন্ন মেজাজে, ভিন্ন সময়ে দেখেছি। খেয়াল করেছি কোনটা মনোযোগ ধরে রাখে, কোনটা ভাঙে, আর কোনটা চুপচাপ প্রতিদিন খেলা হয়। এখান থেকে একটা কথা পরিষ্কার হয়েছে। সব খেলনা সব শিশুর জন্য নয়। শিশুর স্বভাব যেমন ভিন্ন, তার সঙ্গে মানানসই খেলাও ভিন্ন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে একটি প্রশ্ন আসে। খেলনা নিয়ে যা শিখেছি, যা বুঝেছি এবং যে টাকাগুলো নষ্ট করেছি, সেগুলো যদি অন্য অভিভাবকদের ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, তাহলে কেমন হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই খেলনার দোকানের এই পথচলা।
আমরা এমন কিছু খেলনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি, যেগুলো আমাদের নিজস্ব ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণে ভালো মনে হয়েছে। আমরা প্রতিটি শিশুকে চিনি বা প্রতিটি খেলনা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলতে পারি, এমন দাবি করি না। আমরা শুধু এমন জিনিস রাখার চেষ্টা করি, যেগুলো ভালোভাবে বানানো, দামের যোগ্য এবং শিশুর সময়ের যোগ্য।